ফ্রিল্যান্সিং এর সেরা কয়েকটি কাজঃ

১) গ্রাফিক ডিজাইন (Graphic Design)
২) ওয়েব-ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট-(Web Design & Development)
৩) সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন (Search Engine Optimization)
৪) অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট (App Development)
৫) অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং (Affiliate Marketing)
৬) ইমেইল মার্কেটিং (Email Marketing)
৭) ভিডিও এডিটিং (Video Editing)
৮) আর্টিকেল রাইটিং (Article Writing)

১) গ্রাফিক ডিজাইন

যেকোন কোম্পানীর লোগো, ব্রুশিয়ার থেকে শুরু করে অন্যান্য প্রিন্টিং জাতীয় সকল প্রোডাক্ট গ্রাফিক ডিজাইনাররা তৈরি করেন। আবার ওয়েব ডিজাইনের শুরুতে কিংবা ভিডিও এডিটিংয়ের কাজে কিংবা অ্যানিমেশন প্রজেক্টের ক্ষেত্রেও গ্রাফিক ডিজাইনারদের প্রয়োজন। এমনকি এসইও প্রজেক্টের ক্ষেত্রেও গ্রাফিক ডিজাইনারদের সাহায্য প্রয়োজন হয়। গ্রাফিক ডিজাইনারদের চাহিদা কেমন এটুকু তথ্যই তার জন্য যথেষ্ট।

২) ওয়েব ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট

আধুনিকযুগে প্রতিটা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাড়িয়েছে। এছাড়া অনলাইনে তৈরি হচ্ছে নিউজ পোর্টাল, কমিউনিটি সাইট, টিভি, ব্লগসহ আরও বিভিন্ন ধরনের ওয়েব সাইট। এক হিসেব অনুযায়ি সারাবিশ্বে প্রতি মিনিটে ৫৬২টি করে নতুন ওয়েব সাইট চালু হচ্ছে। আশা করছি এই তথ্যটি ওয়েব ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের কাজের সম্ভাবনা বুঝতে আরও সহজ করে দিবে। মার্কেটপ্লেস গুলোতে ওয়েব ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পর্কিত কাজগুলোর প্রতি ঘন্টার রেট গ্রাফিক কিংবা এসইও সম্পর্কিত কাজের তুলনায় বেশি হয়ে থাকে।

৩) সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন বা এসইও

বর্তমানে লোকজন তাদের বেশির ভাগ প্রয়োজনীয় বিষয় গুলো খুজে বের করার জন্য গুগলে সার্চ করে। গুগল এর উপর নির্ভরশীলতা মানুষের দৈনন্দিন কাজকে আরও বেশি সহজ করে দিচ্ছে। যদি কোন কোম্পানী তার সার্ভিস কিংবা প্রোডাক্টকে সম্ভাব্য ক্রেতার সার্চের সময় চোখের সামনে নিয়ে আসতে পারে, তাহলে ঐ সার্ভিসটি বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। আর এই কাজটিকেই বলে সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশন, সংক্ষেপে এসইও। বর্তমানে অনলাইনে মানুষের নির্ভরশীলতা বেড়ে যাওয়ার কারণে সকল কোম্পানী তাদের সার্ভিসকে প্রচারের জন্য অনলাইনকেই সব চাইতে বেশি ব্যবহার করছে। আর সেজন্য যেকোন প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক ভাবে উন্নতির জন্য এসইও এক্সপার্টদের উপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এসইও এক্সাপার্টদের কাজের ক্ষেত্র গুলো সেজন্য অনেক বেশি।

৪) অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট

যাদের প্রোগ্রামিংয়ে মোটামুটি ধারণা আছে, তাদের জন্য আমার সব সময়ের পরামর্শ থাকে অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট শিখে নিন। স্মার্ট ফোনের ব্যবহার বেড়ে যাচ্ছে মানে অ্যাপস ডেভেলপারদের চাহিদাও বেড়ে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে এই সেক্টরটির চাহিদা অনেক বেড়ে যাবে। মার্কেটপ্লেস গুলোতে এই ধরনের কাজের প্রতিযোগীতা কম থাকে এবং কাজের প্রতি ঘন্টা রেটও অনেক বেশি হয়।

৫) অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং

কোন প্রতিষ্ঠান এর অনুমতি নিয়ে তাদের মার্কেটিং করে দিলে এবং সেক্ষেত্রে প্রতিটা প্রোডাক্ট কিংবা সার্ভিসের বিক্রির টাকা হতে একটা অংশ পেলে এই বিষয়টিকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বলে। আন্তর্জাতিক ভাবে অনেক বড় বড় প্রতিষ্ঠান তাদের ব্যবসাকে আরো বেশি বড় করার জন্য অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সিস্টেম চালু রেখেছে। আমাদের দেশে অ্যামাজন অ্যাফিলিয়েট, ক্লিক ব্যাংক অ্যাফিলিয়েট অনেক বেশি জনপ্রিয়।

৬) ইমেইল মার্কেটিং

অনলাইনে মার্কেটিং এর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম হচ্ছে ইমেইল মার্কেটিং। মার্কেটপ্লেসে আয়, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে সফলতার জন্য, কিংবা নিজের বা অন্যের কোন ব্যবসার প্রমোশনের কাজের জন্য ইমেইল মার্কেটিং শিখতে পারেন। কিংবা গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন ইত্যাদির কাজ পাওয়ার জন্য ইমেইল মার্কেটিং এর জ্ঞানটি অনেক বেশি উপকারে আসবে।

৭) ভিডিও এডিটিং

যারা ভিডিও তৈরি কিংবা এডিটিং সম্পর্কিত কাজ জানেন, তারাও অনলাইনে ক্যারিয়ার গড়ার দিকে নজর দিতে পারেন। কারণ এসইও, অ্যাডসেন্স থেকে আয় কিংবা অ্যাফিলিয়েশনের আয়ের জন্য বর্তমানে ভিডিও এডিটিংয়ের কাজ জানা থাকলে অনেক ভাল করতে পারবেন। আর বর্তমানে একটা অংশ গুগলে কোন কিছু সার্চ না দিয়ে ইউটিউবেই সার্চ দেয় বেশি। ইউটিউবে সার্চ বৃদ্ধি পাচ্ছে মানে ভিডিও এডিটিংয়ের জ্ঞান এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

৮) আর্টিকেল রাইটিং

ইংরেজি জ্ঞান ভাল থাকলে আর লেখালেখির অভ্যাস থাকলে শুধুমাত্র আর্টিকেল রাইটার হিসেবেই অনলাইনে অনেক ব্যস্ত ক্যারিয়ার গড়ে তোলা সম্ভব। মার্কেটপ্লেস গুলো আর্টিকেল রাইটিং, রিরাইটিং সম্পর্কিত কাজ গুলো অনেক বেশি থাকে। তাছাড়া এই অভ্যাসকে কাজে লাগিয়ে ব্লগিং করার মাধ্যমেও আয় করা যায়।

উপরে মূলত প্রধান কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আরো অনেক বিষয় আছে যেগুলো শিখেও অনলাইনে ভাল ক্যারিয়ার গড়ে তোলা সম্ভব। এই কাজ গুলো পাওয়ার জন্য বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস রয়েছে। তাছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে, ব্লগিং করে কিংবা ইমেইল মার্কেটিংয়ের মাধ্যমেও অনেক ক্লায়েন্ট পাওয়া যায়।

Post a Comment

Previous Post Next Post